
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার লাকসামে নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে থাকা রেহানা হকের পরিবারকে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের নির্দেশনায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির মাধ্যমে পরিবারটিকে লাকসাম পৌরসভা নির্মিত ও সংস্কার করা বসবাসের উপযোগী বিকল্প বাসায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে লাকসাম উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং জাদুঘর পরিচালনার দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধকতা দূর করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমাকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন লাকসাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকের হোসেন, লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন নাহার লাইলী, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার, বিএন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন হেলাল, লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহ আলম এবং লাকসাম প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি মজিবুর রহমান দুলাল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উপজেলা ভূমি অফিসে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে স্থানান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত ২০২৩ সালে
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান কার্যালয়ে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর বংশধরদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পশ্চিমগাঁও নবাববাড়িতে জাতীয় জাদুঘরের শাখা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে রেজুলেশন গৃহীত হয়।
পরবর্তী সময়ে মোতাওয়াল্লি সৈয়দ মাসুদুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা নবাববাড়ির দখল ছেড়ে দিলেও রেহানা হকের পরিবার জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় বসবাস অব্যাহত রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জাদুঘরের নিরাপত্তা, পরিবেশ ও বাজেট বরাদ্দসংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংস্কার করা বাসা দখলের চেষ্টার অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রমজান মাসে ইফতারের পর আবুল কালাম বিপু বিএনপির নাম ব্যবহার করে রেহানা হকের জন্য সংস্কার করা বিকল্প ভবনটিতে তালা দেন। খবর পেয়ে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের নির্দেশনায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানার নেতৃত্বে ভবনটি দখলমুক্ত করা হয় বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের গেজেটভুক্ত ৪ দশমিক ৫৪ একর প্রত্নসম্পদের ডিজিটাল জরিপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জরিপে আবুল কালাম বিপুর মালিকানাসংক্রান্ত দাবির অসংগতি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জাদুঘরের ১ দশমিক ০৫ একর জমি বেদখলে থাকার বিষয়টিও চিহ্নিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায়ও বিষয়টি আলোচনায় আসে। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, ওয়াক্ফ সম্পদে কারও বসবাস, মালিকানা দাবি বা ভোগদখলের সুযোগ নেই। নবাব ফয়জুন্নেছার বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব গেজেটভুক্ত সম্পদ, যেখানে জাদুঘরের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে কারও বসবাসের সুযোগ নেই।
সাত সদস্যের কমিটির বৈঠক ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের দ্বিতীয় তলার দখলসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং জাদুঘরের কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।