
জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা): লাকসামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ নিয়ে দিনভর আইনি জটিলতার অবসান হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। লাকসাম ও লালমাই দুই থানার দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েনে অনিশ্চয়তায় পড়েছিল লাশটির পরিণতি। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই অজ্ঞাত নারী মারা যান। থানা পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় মরদেহটি হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে থাকায় বিপাকে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৯ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) কয়েকজন পুলিশ সদস্য আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে চলে যান। তবে তারা কোন থানার সদস্য ছিলেন, তা লিপিবদ্ধ না করায় পরবর্তীতে জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাকসাম ও লালমাই থানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও শুরুতে কোনো থানা দায়িত্ব স্বীকার করেনি।
ঘটনার দিন কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. কামরুল হাসান রিয়াদ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স শ্যামল বড়ুয়া জানান, দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ওই নারীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা রোগী রেখে চলে যান এবং এরপর আর কোনো যোগাযোগ করেননি।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে লালমাই থানার এসআই বাবুল মিয়া অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে পেরুল এলাকার সড়কের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
চিকিৎসকরা জানান, সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও নারীর জ্ঞান ফেরানো সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কোনো অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার এসআই নিয়াজ বলেন, যেহেতু ভিকটিমকে লালমাই থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই বিষয়টি লালমাই থানা কর্তৃপক্ষের দেখার কথা। অন্যদিকে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পর তাদের দায়িত্ব শেষ হয়, পরবর্তী বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর আইনি জটিলতার অবসান হয়। পরে লাকসাম থানা পুলিশ মরদেহটি সংগ্রহ করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, এসআই জাহাঙ্গীরের দায়িত্বে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন।