জি.এম এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা): কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় হাতের আঘাতের চিকিৎসা নিতে গিয়ে আব্দুল্লাহ আল হোসাইন (৮) নামের কেমতলি হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শিশুটি লাকসাম উপজেলার কেমতলী গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশিদের একমাত্র সন্তান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) খেলাধুলার সময় হাতে ব্যথা পেলে তাকে দ্রুত লাকসাম ইউনিটি ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহেদ আনোয়ার ভুঁইয়া শিশুটিকে ভর্তি দিয়ে অপারেশনের পরামর্শ দেন এবং প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচের কথা জানান। সন্তানের সুস্থতার আশায় পরিবার অপারেশনে সম্মতি দেয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ২টায় শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় পর বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং দ্রুত কুমিল্লায় নিয়ে যেতে হবে। পরে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, শিশুটির মৃত্যু আগেই হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা মরদেহ নিয়ে আবার লাকসামে ফিরে এসে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে, ফলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলেও তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।