
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ, অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলার প্রধান আসামি সুফিয়ান মজুমদার শামীমকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে লাকসাম থানা পুলিশ।
এর আগে গত ২ জুলাই বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ মামলার আরেক আসামি আলামিনকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপহরণের পর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, অবৈধভাবে গর্ভপাত এবং মাদক সেবনে বাধ্য করা হয়। পরে ১০ এপ্রিল প্রথমবার তাকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ এপ্রিল পুনরায় অপহরণের শিকার হয় সে। পরবর্তীতে ২৩ জুন দ্বিতীয়বারের মতো কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ২৪ জুন লাকসাম থানায় জিআর-২১ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামি সুফিয়ান মজুমদার প্রকাশ শামীম (২২), পশ্চিমগাঁও এলাকার শাহাজাহান মজুমদারের ছেলে। অপর আসামি আলামিন (২১) গোবিন্দপুর এলাকার ওবায়দুল হকের ছেলে। এছাড়া পশ্চিমগাঁও এলাকার মৃত সিদ্দিক মজুমদারের ছেলে শাহাজাহান (৫৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “মামলার প্রধান আসামি শামীমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২ নম্বর আসামি আলামিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
মামলার বাদী ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণা বলেন, মেয়ের ন্যায়বিচারের আশায় তিনি অপেক্ষা করছেন। এ বিষয়ে তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছেন। পরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাদী।