
জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা):
ঐতিহাসিক নবাব ফয়েজুন্নেছার জাদুঘর এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দখলমুক্ত না হওয়া, নিচু দেয়াল ও পর্যাপ্ত প্রহরীর অভাবে মানুষ ও ছাগল নির্বিঘ্নে প্রবেশ করছে, ফলে জাদুঘরের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সংরক্ষিত অমূল্য স্মৃতিচিহ্নগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ২য় তলার বাসিন্দা পুনর্বাসন না হওয়ায় সংস্কার বন্ধ খসে পড়ছে দেয়াল ও ছাদ।
এদিকে জাদুঘরের সাতটি গ্যালারিতে নবাব ফয়েজুন্নেছার ব্যবহার্য ২২৭টি নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে এসব গ্যালারির যথাযথ তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক দর্শনার্থী হাত দিয়ে স্মৃতিচিহ্ন স্পর্শ করছেন, যা নিদর্শনের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
নিচু দেয়াল পেরিয়ে ছাগল প্রবেশ করে বাগানের গাছপালা নষ্ট করছে। একসময় ফুলে ভরা বাগানটি এখন প্রায় গাছশূন্য। দর্শনার্থীরা জানাচ্ছেন, “আগে বাগানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতাম, এখন সেই পরিবেশ আর নেই।”
এদিকে জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় নবাব পরিবারের এক বংশধর বসবাস করছেন। তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো তারা ভবনটি খালি করেননি। এতে সংস্কারকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। দেয়ালের ইট ও আস্তর খুলে পড়ছে, ফ্লোরে তৈরি হয়েছে ফাটল। লাকসাম সিটি নিউজ প্রতিনিধিকে নবাব বংশধর মৃত নবাব আজিজুল হকের পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যেখানে আমাদের পুনর্বাসন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটি এক প্রভাবশালী পরিবারের কিনে রেখেছে, এর কোন সুরাহা হয়নি। তিনি বলেন, টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হলে আমরা ২য় তলাটি ছাড়তে রাজি।”
অন্যদিকে, নবাববাড়ির প্রধান প্রবেশপথটি অবৈধ দোয়াল তুলে জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটক ও মালামাল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। এতে পর্যটক সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে নবাব ফয়েজুন্নেছার স্মৃতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
তারা দ্রুত লোকবল নিয়োগ, দেয়াল উঁচু করা, বাগান পুনর্গঠন, প্রবেশপথ খুলে দেয়া ও ২য় তলার বাসিন্দাদেরকে সরিয়ে দ্রুত সংস্কার করে নবাব ফয়েজুন্নেছার বাড়িটি রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।