জি.এম.এস রুবেল লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় পুকুর খননের সময় একটি জীবন্ত গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেনেডটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের।
জানা যায়, গত ১৬ মার্চ উপজেলার একটি পুকুর খননের সময় তোলা মাটি পাশ্ববর্তী শিশু নিকেতন স্কুল সংলগ্ন এলাকায় রাখা হয়। সেখান থেকে ভ্যানে করে মাঠে নেওয়ার সময় শ্রমিকরা একটি ধাতব বস্তু দেখতে পান। বস্তুটি কী তা বুঝতে না পেরে তারা উপজেলা গেট এলাকার এক দোকানদার শরিফের কাছে জমা দেন।
দোকানদার শরিফ বস্তুটি ধুয়ে পরিষ্কার করে চাবি দিয়ে খোলার চেষ্টা করেন, তবে ব্যর্থ হন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত রিয়াদ নামের এক সংবাদকর্মীর সন্দেহ হলে তিনি এটিকে বোমা বলে সবাইকে সতর্ক করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত অনেকেই বিষয়টির ঝুঁকি সম্পর্কে না জেনে বস্তুটির সঙ্গে সেলফি তোলা ও হাতে নিয়ে দেখার মতো বিপজ্জনক আচরণ করেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশি পাহারায় রাখার পর ১৭ মার্চ বিকেলে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বস্তুটি পরীক্ষা করে এটিকে গ্রেনেড হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন একটি পুকুরে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে গ্রেনেডটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ঢাকা থেকে আসা বোম ডিসপোজাল ইউনিট গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের গ্রেনেড হতে পারে।
ঘটনায় এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন অজ্ঞাত বা সন্দেহজনক বস্তু দেখলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়েছে।