
জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা): কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় এক বালিকা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ডুপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে এক মেয়েকে কয়েকজন ব্যক্তি কাঁধে করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে উৎসুক জনতার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম উপজেলার হারাখাল এলাকার তাহমিনা আক্তার স্মৃতি নামে এক কিশোরীর সঙ্গে ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার মো. মাসুদ (৩২) নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাসুদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পর পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে মাসুদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সোমবার রাতে মাসুদ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে যান। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মেয়েটির বাবা আলম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে মাসুদ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর সহযোগিতায় তাদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় ঘরের দরজার তালা ভেঙে প্রায় ১৮ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে এর আগেই অভিযুক্তরা তার মেয়েকে নিয়ে চলে যায়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মেয়ের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, স্মৃতি ও মাসুদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা পালিয়ে বিয়েও করেছিলেন। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের দায়ের করা অপহরণ মামলায় মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি পুনরায় ওই মেয়েকে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর মেয়েটির পরিবার থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ভাইরাল ভিডিও এবং পরিবারের অভিযোগের পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।