
তারাবির নামাজের সময় আগুন, ঈদের নতুন জামা-কাপড়সহ সবকিছু পুড়ে ছাই
জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা):
কুমিল্লার লাকসামে একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে নগদ অর্থ, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে গিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৯ মার্চ) রাত ৯টার দিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিশ্রী এলাকায় অবস্থিত লাকসাম ছালেহীয়া আলিয়া দীনিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মাদ্রাসার প্রধান মোহতামিম মোহাম্মদ উল্লাহ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার পাশের মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করছিলেন। এসময় এক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার দিলে সবাই দ্রুত বেরিয়ে এসে লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে মাদ্রাসার ভেতরে থাকা নগদ অর্থ, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঈদ উপলক্ষে কেনা তাদের নতুন জামা-কাপড়গুলোও আগুনে পুড়ে গেছে। এতে তারা চরম হতাশা ও কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।
মাদ্রাসার প্রধান মোহতামিম মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে নগদ অর্থ ও আসবাবপত্রসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে এতিম শিক্ষার্থীদের ঈদের জন্য কেনা নতুন জামা-কাপড়গুলো পুড়ে যাওয়ায় খুবই কষ্ট লাগছে।”
লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. কবিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার ফাইটাররা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাদ্রাসাটির পুনর্গঠনে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।