
জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা):
লাকসাম পৌরসভায় দিনব্যাপী ‘ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (২১ ডিসেম্বর) লাকসাম পৌর অডিটোরিয়ামে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমার সভাপতিত্বে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি)-এর আওতায় এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় উপস্থাপনা করেন নগর পরিকল্পনাবিদ আব্দুর রকিব খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল কুদ্দুস, এসএমই (আরইউটিডিপি), কুমিল্লা এবং লাকসাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন।
এছাড়া কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন নগর পরিকল্পনাবিদ তামান্না সালাম, আর্কিটেক্ট ফারহানা ইসলাম, ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার সানিম আরেফিন, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মো. আল আমিন, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মো. জাহিদুল ইসলামসহ টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটি (টিএলসিসি)-এর সদস্যবৃন্দ।
বক্তারা জানান, আরইউটিডিপি একটি বাংলাদেশের নিজস্ব বিনিয়োগ প্রকল্প, যা বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০৩০ পর্যন্ত ছয় বছর মেয়াদে এ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু সহিষ্ণু ও উন্নত নগর অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৮১টি পৌরসভা ও ৬টি সিটি কর্পোরেশনে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এবং গ্রোথ করিডোর এলাকায় বসবাসরত নগর ও গ্রামীণ আরও ৪৬ লাখ মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান তারা।
আরইউটিডিপির মাধ্যমে রাস্তা ও ফুটপাত উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, ড্রেন নির্মাণ, পাবলিক টয়লেট, বাজার ও বাস টার্মিনাল উন্নয়ন, সুপার মার্কেট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, পৌরভবন নির্মাণসহ আধুনিক নগর সেবার বিভিন্ন খাত উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্প সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিচালিত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমা বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে লাকসাম পৌরসভায় আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। রাস্তা, ড্রেন, সড়কবাতি, বাজার ও টয়লেটসহ নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন হবে। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে লাকসাম একটি আধুনিক ও সবুজ পৌরসভায় রূপ নেবে।
কর্মশালায় লাকসাম পৌরসভার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম এবং এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।