
জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা):
লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন সংলগ্ন ব্যস্ততম বাজারটিতে সম্প্রতি চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর ভাষায়—“বাজারে এখন শান্তি ফিরেছে।”
বনিক সমিতির নতুন নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের পর সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের উদ্যোগে বাজারের সার্বিক পরিবেশে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগে যেখানে নিয়মিত চুরি, ছিনতাই ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটতো, সেখানে এখন সেই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। বাজারে স্থায়ীভাবে ভ্রাম্যমাণ নিরাপত্তা টিম গঠন, আলো-বাতির ব্যবস্থা, দোকানপাটের সুশৃঙ্খল অবস্থান এবং যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানোর কারণে ব্যবসায়ীরা এখন নিশ্চিন্তে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, “আগে সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতেও ভয় লাগতো, এখন আর সেই ভয় নেই। মোস্তফা ভাই ও বিল্লাল ভাইয়ের নেতৃত্বে বাজার এখন পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ।”
বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমরা বাজারের প্রতিটি দোকানিকে এক ছাতার নিচে আনতে পেরেছি। শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল বলেন, “লাকসাম জংশন বাজার শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, এটি এলাকার অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। তাই এখানে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করছি। আগে রিকশা, সিএনজি থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করা হতো আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর তা বন্ধ করেছি। বাজারে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে দোকান পাওয়া লাইসেন্সিদের পুনর্বাসন করার জন্য রেলওয়ের সাথে সমন্বয় করে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, যা অচিরেই বাস্তবায়ন করা হবে।"
স্থানীয় ক্রেতা ও পথচারীরাও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যানজটের পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। সড়কের পাশে অবৈধভাবে পণ্য রাখা ও রিকশা-ভ্যানের অনিয়মিত পার্কিং বন্ধ হওয়ায় বাজারের চলাচল এখন অনেক স্বস্তিদায়ক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে লাকসাম রেলওয়ে জংশন বাজার অচিরেই কুমিল্লা জেলার অন্যতম মডেল বাজারে পরিণত হবে।