
জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা) : কুমিল্লার লাকসামে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটির নির্দেশনায় লাকসাম ইউনিটি ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) লাকসাম ইউনিটি ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহ আল হোসাইন (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে উপজেলার বাকই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের কেমতলী গ্রামের মো. হারুনুর রশিদের একমাত্র সন্তান এবং স্থানীয় কেমতলী হাফেজিয়া নূরানী মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির ভেতরে চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা ঝুলানো হবে, অনেক স্টাফ হাসপাতাল ছেড়েছে, কয়েকজনকে জিমুতে দেখা যায় এবং ভেতরে তেমন কোনো চিকিৎসক বা সেবাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। হঠাৎ করে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম জানান, “শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং প্রমাণ সংরক্ষণের স্বার্থে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।”
জানা গেছে, তদন্ত কমিটি হাসপাতালের চিকিৎসা নথিপত্র, অপারেশন সংক্রান্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালন, এবং ঘটনার সময়কার চিকিৎসা প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শাহেদ আনোয়ার ভূঁইয়া ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যা সন্দেহ আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে ক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করে এবং কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা জানান, “তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ দায়ের হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।