আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা
জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা): পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে খুন্তা ফাউন্ডেশন গ্রহণ করেছে এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং অসচ্ছল রোজাদারদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে খুন্তা ও পার্শ্ববর্তী কেমতলী গ্রামে ৬০টি পরিবারের মাঝে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে বিতরণকৃত প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ছোলা ২ কেজি, খেসারি ১ কেজি, সয়াবিন তেল ১ লিটার, খেজুর ১ কেজি এবং মুড়ি ১ কেজি। উপকারভোগীদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা রাতে অন্ধকারে এবং দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।
খু্ন্তা ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুহাম্মদ শাহ্ নূর রনি জানান, “আমরা চাইনি কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে সহায়তা গ্রহণ করুক। তাই গোপনীয়তা বজায় রেখে সরাসরি তাদের বাড়িতে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।”
খুন্তা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সোহেল বলেন, “রমজান সংযম, সহমর্মিতা ও দানের মাস। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করবে; তবে রোজাদারের সাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না (ইবনু মাজাহ: ১৭৪৬)। এই হাদিসের আলোকে আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছি।”
সহায়তা পাওয়া কেমতলী গ্রামের এক গৃহিণী বলেন, “রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এমন সময়ে ইফতার সামগ্রী পেয়ে আমরা খুব উপকৃত হয়েছি। যারা দিয়েছেন আল্লাহ যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দেন।”
আরেক উপকারভোগী জানান, “চুপচাপ বাড়িতে এসে তারা খাবার দিয়ে গেছে। আমাদের সম্মানও রক্ষা হয়েছে, আবার প্রয়োজনও পূরণ হয়েছে—এটাই সবচেয়ে বড় কথা।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ছিল কার্যক্রমের প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপে আরও বেশি পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
খুন্তা ও কেমতলী এলাকায় এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন মানবিক কার্যক্রম রমজানের প্রকৃত শিক্ষা—সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার—বাস্তব চিত্র।