July 8, 2026, 12:00 am

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে তেলের খনি? রহস্যঘেরা পরিত্যক্ত কূপ নিয়ে নতুন আলোচনা

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, May 9, 2026
  • 159 Time View

লালমাই (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে তেলের খনি রয়েছে—এমন গুঞ্জন বহু বছর ধরেই স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসায় এলাকাজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে কৌতূহল ও নানা জল্পনা।

সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত কূপকে ঘিরেই এই রহস্যের জন্ম। স্থানীয়দের দাবি, একসময় এখানে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা খননকাজ চালিয়েছিলেন এবং পরীক্ষামূলকভাবে তেলের অস্তিত্বও পাওয়া গিয়েছিল। পরে রহস্যজনকভাবে কূপটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ সালের দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এ এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। ‘লালমাই-১’ ও ‘লালমাই-২’ নামে দুটি কূপ খনন করা হয়। অনুসন্ধানের সময় কিছু পরিমাণ অপরিশোধিত তেলের উপস্থিতি মিললেও উৎপাদনের পরিমাণ ছিল খুবই সীমিত।

লালমাই-১ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ২৫ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব হয়েছিল। লালমাই-২ কূপেও পর্যাপ্ত চাপ পাওয়া যায়নি। ফলে কূপ দুটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক বিবেচিত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিজের চোখে দেখেছি এখানে খননকাজ হয়েছে। শুনেছি তেলও পাওয়া গিয়েছিল। পরে হেলিকপ্টার এসে কূপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

আরেক বাসিন্দা মো. শহীদ বলেন, “ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি জায়গাটিতে তেল পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু কেন এটি বন্ধ করা হলো, তা আজও জানি না।”

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি তেলকূপ লাভজনক করতে হলে প্রতিদিন কয়েকশ ব্যারেল তেল উত্তোলন প্রয়োজন। কিন্তু লালমাইয়ে উৎপাদন ছিল অত্যন্ত কম। পাশাপাশি অতিরিক্ত পানি উঠে আসা, চাপ কমে যাওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

পরে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে কূপগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ বা ‘প্লাগ অ্যান্ড অ্যাবানডন’ করা হয়।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, লালমাই এলাকায় অনুসন্ধানে তেলের উপস্থিতি মিললেও তা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ছিল না। সে কারণেই কূপ দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের বিশ্বাস, লালমাই পাহাড়ের গভীরে এখনও মূল্যবান জ্বালানি সম্পদ লুকিয়ে থাকতে পারে। আর এ কারণেই বহু বছর পরও পরিত্যক্ত কূপটি ঘিরে রহস্য ও কৌতূহলের শেষ হয়নি।


প্রিন্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category