লাকসাম, (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : মিশরের বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন তরুণ আলেম মাওলানা ইব্রাহিম খলিল মজুমদার। মেধা, যোগ্যতা ও দীর্ঘ শিক্ষা-সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে এবছর মিশর সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর জন্য এই বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি ঘোষণা করে।
মাওলানা ইব্রাহিম খলিল মজুমদার কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি লাকসামে বসবাস করছেন। তাঁর প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা শুরু হয় মনোহরগঞ্জের উত্তর হাওলা দিঘিরপাড় মাদ্রাসায়, যেখানে তিনি হিফজুল কোরআন সম্পন্ন করেন। পরে চট্টগ্রামের বিখ্যাত হাটহাজারী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ইসলামিক শিক্ষায় মনোনিবেশ করে ২০২১ সালে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। হাটহাজারীর দারুল হাদিসে হাদিস অধ্যয়নে গভীর মনোনিবেশ ও মেধার আলো ছড়িয়ে তিনি সারাদেশে আলোচনায় আসেন।
২০২৩ সালে “স্টাডি ইন ইজিপ্ট” প্রোগ্রামের আওতায় মিশরে পড়াশোনার সুযোগ লাভ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফ্যাকাল্টি অফ ইসলামিক থিউলজি’ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ এবং ‘ডিপ্লোমা শরীয়া ল’–র প্রথম সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।
এরই ধারাবাহিকতায় এবছর তিনি অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপের আওতায় তার টিউশন ফি, আবাসন, চিকিৎসা, বিমান টিকিট, ভ্রমণ সুবিধাসহ শিক্ষাজীবনের সব খরচ বহন করবে মিশর সরকার ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই অর্জনের জন্য আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করে মাওলানা ইব্রাহিম খলিল মজুমদার তাঁর পিতা-মাতা, শিক্ষাগুরু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি ইসলাম প্রচার-প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। অনলাইন-অফলাইন প্ল্যাটফর্মে ইসলামি দাওয়াত পৌঁছে দেয়া, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ এবং জাতীয় টেলিভিশনে তাফসির পেশ করার মাধ্যমে নিজেকে একজন তরুণ আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এছাড়াও তিনি সমাজের টেকসই উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত তার প্রতিষ্ঠিত সেবামূলক সংগঠন। সমাজসেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই তিনি তরুণ সমাজে অনুপ্রেরণার এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছেন।
তাঁর এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে স্থানীয়ভাবে আনন্দ ও গর্বের স্রোত বয়ে গেছে।
মাওলানা ইব্রাহিম খলিল মজুমদারের অর্জন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ও কুমিল্লার জন্য এক গৌরবময় মাইলফলক।