জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা):
হুইলচেয়ারে বসেই জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে জয় করেছেন শিরিন মন্ডল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার স্বপ্নের পথে কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে আজ তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। অনলাইনে পণ্য বিক্রির মধ্য দিয়ে শুরু করা সেই ছোট উদ্যোগই এখন বাস্তব একটি দোকানে রূপ নিয়েছে।
কুমিল্লার লাকসামের বাসিন্দা শিরিন মন্ডলের উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতে ঘরে বসেই অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতেন তিনি। ধীরে ধীরে সততা ও মানসম্মত পণ্যের মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আস্থাই তাকে স্বপ্নের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তা ছিল তার এই দীর্ঘ পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি।
নিজের সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে শিরিন মন্ডল বলেন,
“অনেকে বলতো আমি কিছু করতে পারবো না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম—চেষ্টা করলে সম্ভব। অনলাইনে ব্যবসা শুরু করি, ধীরে ধীরে সাড়া পাই। আজ নিজের দোকান খুলতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে অসংখ্য না-বলা গল্প। আর্থিক সংকট, শারীরিক সীমাবদ্ধতা এবং সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়েছে তাকে। তবুও অদম্য সাহস, কঠোর পরিশ্রম আর নিজের ওপর অটুট বিশ্বাসই তাকে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। প্রতিটি প্রতিবন্ধকতাই যেন তাকে আরও দৃঢ় করেছে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে।
শিরিনের এই সংগ্রামের নীরব সাক্ষী তার পরিবার। শিরিনের বোন সাকিনা মন্ডল শশী বলেন,
“অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে ওকে এগোতে হয়েছে। কিন্তু কখনো হাল ছাড়েনি। আজ ওর এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।”
শুধু পরিবার নয়, ক্রেতাদের কাছেও শিরিন মন্ডল একজন অনুপ্রেরণার নাম। নিয়মিত ক্রেতা ফরিদা ইয়াসমিন রিনা বলেন,
“শিরিন আপার কাছ থেকে পণ্য কিনে আমি খুব সন্তুষ্ট। ওর সংগ্রাম আর সাফল্য আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা।”
এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উপন্যাস চন্দ্র দাস বলেন,
“প্রতিবন্ধী শিরিন মন্ডল অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি আবেদন করলে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ঋণ প্রদানের উপযুক্ত হলে তাকে ঋণ প্রদান করা হবে।”
শিরিন মন্ডলের জীবনের গল্প প্রমাণ করে—ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমাজের অসংখ্য প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য এক সাহসী অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।