July 28, 2026, 7:10 pm

আলোচিত ৩ শিশু যৌন নিপীড়ন মামলার পলাতক অভিযুক্ত মকবুল আটক

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 28, 2026
  • 5 Time View

জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা) : কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ছোট চাঁদপুর গ্রামে তিন শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার পলাতক অভিযুক্ত মকবুল হোসেন (৪০)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকায় অভিযান চালানোর সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি লাকসামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পরে তাকে অনুসরণ করে পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে লাকসামে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ছোট চাঁদপুর গ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় গ্রামবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ লাকসাম থানায় এ ঘটনায় মামলা নম্বর-১০ দায়ের করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১৬ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ছোট চাঁদপুর গ্রামের একটি বসতঘরে মকবুল হোসেন তিন শিশুকে যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, জোরপূর্বক চুম্বন করা এবং যৌনাঙ্গে স্পর্শ করার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভুক্তভোগী তিন শিশু হলেন—চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মমতাজ আক্তার (১১), প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার মাওয়া (৭) এবং একই শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার (৬)।

যৌন নিপীড়নের শিকার এক শিশুর পিতা বলেন, “দুনিয়ায় এখনো ভালো মানুষ আছে। ওসি ম্যাডাম গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আসামি প্রভাবশালী হওয়ার পরও আমাদের মামলা নিয়েছেন এবং তাকে গ্রেফতার করেছেন। অথচ মকবুল ও তার মা বলতেন, টাকার কাছে গরিবের ইজ্জতের কোনো মূল্য নেই। টাকা দিয়ে সব ঠিক করে ফেলবেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, গরিবও বিচার পায়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছোট চাঁদপুর গ্রামের এক বাসিন্দা দাবি করেন, মকবুল একটি নারী পাচার মামলায় সৌদি আরবে কারাভোগ করে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও এলাকায় প্রচলিত ছিল। শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাকে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “আসামিকে ধরতে লাগাতার অভিযান চালানো হয়েছে। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মকবুল হোসেন এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা। তবে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।


প্রিন্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category