নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও পারস্পরিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ছয় পিস সোনার চুড়ি, আইফোন, ল্যাপটপ, প্রসাধনসামগ্রী ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাইন উদ্দিন সুজন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রোববার (১ নভেম্বর) আদালতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার মাইন উদ্দিন সুজন নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের কনকইজ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। মামলার বাদী আলমগীর হোসেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের লনিশ্বর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
মামলার নালিশি আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাদী আলমগীর হোসেন ও অভিযুক্ত মাইন উদ্দিন সুজন দীর্ঘদিন বিদেশে একসঙ্গে অবস্থান করার সুবাদে তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ক ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে দেশে ফেরার সময় নিজের কিছু মূল্যবান মালামাল সুজনের কাছে রেখে যান আলমগীর।
এসব মালামালের মধ্যে ছিল ১০০ গ্রাম ওজনের ছয় পিস সোনার চুড়ি, একটি আইফোন, একটি ল্যাপটপ, ২০ কেজি প্রসাধনসামগ্রী এবং নগদ ১ হাজার ৫০০ দিরহাম। দেশে ফেরার পর মালামালগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।
নালিশি আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের জন্য গত ১৩ জুলাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সালিশকারীদের উদ্যোগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত মাইন উদ্দিন সুজন মালামাল ফেরত দেওয়া অথবা সেগুলোর সমপরিমাণ মূল্য পরিশোধের অঙ্গীকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩ আগস্টের মধ্যে মালামাল ফেরত দেওয়া এবং বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা প্রত্যাহারের বিষয়েও অঙ্গীকার করা হয়েছিল বলে নালিশি আবেদনে দাবি করা হয়। ওই সময় সালিশের সভাপতির কাছে ১০ হাজার টাকা জমা দেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও বাকি মালামাল ফেরত দেওয়া কিংবা সেগুলোর সমপরিমাণ মূল্য পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরবর্তী সময়ে বাদী ও সালিশকারীরা একাধিকবার মালামাল অথবা সেগুলোর মূল্য ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাতে সাড়া দেননি বলে নালিশি আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মালামাল ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাদীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেনের দাবি, সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আদালতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাইন উদ্দিন সুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।