October 25, 2026, 10:03 pm

লাকসামে যাত্রাবিরতি দিচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, টিকিট বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, October 25, 2026
  • 7 Time View

জি.এম.এস রুবেল (লাকসাম) : ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে চালু হচ্ছে আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন। ২৬ অক্টোবর থেকে নতুন এ ট্রেনের লাকসাম রেলওয়ে জংশনসহ কয়েকটি স্টেশনে যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে। তবে লাকসাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনে মাত্র ২০টি আসন বরাদ্দ থাকায় তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের পর ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে নতুন করে এক জোড়া মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন যুক্ত হচ্ছে। ট্রেন দুটি ৭২১ আপ ও ৭২২ ডাউন নম্বরে চলাচল করবে। এর ফলে লাকসামসহ নির্ধারিত কয়েকটি স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া ট্রেন চলাচল ও যাত্রাবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১ আপ) বেলা ২টা ৪২ মিনিটে লাকসাম জংশনে পৌঁছাবে এবং ২টা ৪৪ মিনিটে ছেড়ে যাবে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২ ডাউন) রাত ১২টা ২১ মিনিটে লাকসামে পৌঁছাবে এবং ১২টা ২৩ মিনিটে ছেড়ে যাবে।

লাকসাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনে শোভন চেয়ার শ্রেণিতে ১৫টি এবং স্নিগ্ধা শ্রেণিতে পাঁচটিসহ মোট ২০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। শোভন চেয়ারের ভাড়া ৪১০ টাকা এবং স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৭৮২ টাকা। অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া জানান, ২৬ অক্টোবরের জন্য লাকসাম থেকে ট্রেনটির একটি টিকিটও কাউন্টারে বিক্রি করা যায়নি; সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে।

লাকসামের যাত্রী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ আশপাশের এলাকার যাত্রীরাও লাকসাম জংশন ব্যবহার করেন। সে তুলনায় কক্সবাজারগামী ট্রেনে মাত্র ২০টি আসন বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় এ বরাদ্দ অন্তত ১০ গুণ বাড়ানো প্রয়োজন।

দীর্ঘদিনের দাবির পর যাত্রাবিরতি

কক্সবাজারগামী ট্রেনের লাকসাম জংশনে যাত্রাবিরতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক ও যাত্রীরা। এ দাবিতে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

লাকসাম প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান দুলাল জানান, গত ১৩ আগস্ট লাকসাম প্রেসক্লাবের নেতারা কক্সবাজার রেলস্টেশনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রাবিরতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে গত ১৫ অক্টোবর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা, অতিরিক্ত বাণিজ্যিক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লাকসাম রেলওয়ে জংশন পরিদর্শন করেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কক্সবাজারগামী ট্রেনে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক ছিল। তবে লোকোমোটিভ সংকটের কারণে এত দিন এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

নতুন এ ট্রেন চালুর ফলে কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে মহানগর এক্সপ্রেস চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন লাকসাম জেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন, লাকসাম প্রেসক্লাবের সভাপতি নুর উদ্দিন জালাল আজাদ, সাবেক সভাপতি মো. আবদুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিনসহ প্রেসক্লাবের নেতারা।

তবে স্থানীয়দের মতে, লাকসাম রেলওয়ে জংশন বৃহত্তর নোয়াখালী ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হওয়ায় কক্সবাজারগামী ট্রেনে আসনসংখ্যা বাড়ানো জরুরি। নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি যাত্রীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টিকিট বরাদ্দ বাড়ানোই এখন তাঁদের প্রধান দাবি।


প্রিন্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category