April 19, 2026, 11:08 pm

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা, পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে মাদকের আখড়া

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 15, 2025
  • 54 Time View

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

দেয়ালে ফাটল, ছাদে ঝুলে থাকা ফলেপ—এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। ডাক্তার ও কর্মচারীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিত্যক্ত আবাসিক কোয়ার্টারগুলো পরিণত হয়েছে মাদকসেবী ও অপরাধীদের আখড়ায়।

১৯৬৫ সালে নির্মিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার বহু আগেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দরজা-জানালা, পাইপ ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। এমনকি কয়েক মাস আগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার হয়।

বর্তমানে হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে, কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছু কাজ করে বাকি রেখেই পালিয়েছে। এতে নির্মাণাধীন অংশে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রতিদিন বহিঃবিভাগে ১ হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, খসে পড়া ফলেপ, বাঁকা জানালার গ্রীল—সব মিলিয়ে পুরো হাসপাতালই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। নারী ও শিশু ওয়ার্ড, ডেলিভারি কক্ষ এবং টয়লেটগুলো ভয়াবহভাবে জরাজীর্ণ।

রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নিরাপত্তা বা গোপনীয়তার কোনো ব্যবস্থা নেই। ডেলিভারি কক্ষের দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে। শিশুরা ভর্তি থাকা ওয়ার্ডেও রয়েছে ধ্বসের আশঙ্কা।

চিকিৎসক ও কর্মচারীরাও দারুণ দুর্ভোগে আছেন। আবাসনের অভাবে কেউ কেউ অন্যত্র বদলি নিচ্ছেন, আবার কেউ দূর থেকে এসে অতিরিক্ত খরচে থেকে কাজ করছেন। এক কর্মচারী বলেন, “আমরা মানুষ না—বিশ্রামের জায়গা নেই, আবাসন নেই, কিন্তু দিন-রাত কাজ করতে হয়।”

সিনিয়র স্টাফ নার্স মঞ্জুমা বেগম বলেন, “ভবনটা কখন ধ্বসে পড়ে, সেই আতঙ্ক নিয়েই কাজ করি।”

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুল হাসান রিয়াদ বলেন, “হাসপাতালের সমস্যার শেষ নেই। ভবন মেয়াদোত্তীর্ণ, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম জানান, “এই হাসপাতালই বৃহত্তর লাকসাম অঞ্চলের প্রধান সেবাকেন্দ্র। কিন্তু ভবনটি নিজেই নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত। পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলোতে দিন-রাত মাদকসেবীদের আনাগোনা। আমরা বারবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো প্রতিকার পাইনি।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category