জি.এম.এস রুবেল:বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তাঁরা হলেন সাবেক সেনাসদস্য সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলায়। অপরদিকে শাহীন আলম কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে একটি আবেদন করেন। আবেদনে দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে কোনো তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য থাকলে তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের অনুরোধও জানানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি কার্যক্রম ও তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি ঝোপ থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন তনুর পরিবার, সহপাঠী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
দীর্ঘ এক দশক পর মামলার তদন্তে এই নতুন অগ্রগতি বিচার প্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।