জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা):
কুমিল্লার লাকসামের ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ পরীক্ষাবন্ধের কারণে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা চরম উদ্বেগে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমা এবং পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস সুলতানা বিদ্যালয়ে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
ইউএনও নার্গিস সুলতানা বলেন, “শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করা ঠিক হয়নি।” যেসব অভিভাবক সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের দ্রুত পরীক্ষার হলে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান তিনি। তার হস্তক্ষেপে পরে বিদ্যালয়ে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়।
এদিকে, দৌলতগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষক মোঃ নুরুল আমিন বলেন,
“শিক্ষকদের অসম্মানজনক বেতন দেওয়া হচ্ছে। ৬ টাকায় এক কাপ চা পাওয়া যায় না, অথচ এটাই আমাদের টিফিন বাজেট! দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে সরকার তালবাহানা করছে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে।”
লাকসাম উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বিল্লাল হোসেন টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন,
“আমাদেরকে আন্দোলনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হওয়ায় আমাদেরও মন কাঁদে। কিন্তু সরকার লিখিতভাবে প্রজ্ঞাপন না দিলে আন্দোলন থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।”
লাকসাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, সরকার শিক্ষকদের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাই তাদের পরীক্ষা পরিচালনায় সহায়তা করা উচিত। তিনি জানান, উপজেলার ৭৬টি বিদ্যালয়ে গত দুই দিন পরীক্ষা সঠিকভাবে পরিচালিত হলেও সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করায় কয়েকটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে পরীক্ষা পুনরায় শুরু করেন। তবে তিনি জানান, পরীক্ষা মূলত অভিভাবকদের সহায়তায় পরিচালিত হয়েছে; শিক্ষকরা এতে অংশ নেননি।
এদিকে অভিভাবকরা আন্দোলনের যৌক্তিকতা স্বীকার করলেও পরীক্ষার আগে এমন কর্মসূচিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের দাবি— পরীক্ষার সময় নয়, অন্য সময়ে আন্দোলন হলে শিক্ষার্থীদের এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না।
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষকেরা ৯ নভেম্বর থেকে বেতন–পদোন্নতি, গ্রেড উন্নয়ন ও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এর প্রভাবে বহু বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে।
লাকসামে পরীক্ষার পুনরায় শুরু হলেও— দেশের অনেক স্থানে আন্দোলন ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।