লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর–১০ ডিসেম্বর) এবং বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশব্যাপী আয়োজন করা হয় “অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৫”। এর অংশ হিসেবে লাকসাম উপজেলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল, সংগ্রামী ও উদাহরণযোগ্য নারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় লাকসাম উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৫টি ক্যাটাগরিতে ৫ জন নারীকে শ্রেষ্ঠ “অদম্য নারী” হিসেবে নির্বাচন করে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস সুলতানা। তিনি বলেন— “সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা আজ নিজেদের মেধা, পরিশ্রম ও দৃঢ়তায় এগিয়ে যাচ্ছে। অদম্য নারীরা শুধু নিজেদের নয়—পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আজ যাদের সম্মাননা দেওয়া হলো, তারা অন্য নারীদের প্রেরণা হয়ে থাকবে।”
সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মানসী পাল। তিনি বলেন— “নারীর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা ও সামাজিক বাধা দূর করতে হলে সফল নারীদের গল্প সমাজে আরও বেশি তুলে ধরতে হবে। ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ সেই উদ্যোগকেই আরও শক্তিশালী করে।”
লাকসাম পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজেরা কুদ্দুস (রূপা) পেয়েছেন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরির সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। তিনি শিরীন কুদ্দুসের কন্যা ও গোলাম মাহবুব ছোবহানীর স্ত্রী। পরিশ্রম, সততা এবং উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।

সম্মাননা পত্রে তাঁকে লাকসাম উপজেলার সর্বোত্তম অদম্য নারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তাঁর ভবিষ্যৎ সাফল্যের কামনা জানানো হয়।
এছাড়া শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সফল নারী নির্বাচিত হয়েছেন ফারজানা চৌধুরী উত্তর ইউনিয়নের উত্তর নরপাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বুলবুল আক্তার ও মোঃ বজলুল আমীনের কন্যা। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর সংগ্রাম ও সফলতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সফল জননী নারী মোসাম্মৎ কোহিনূর আক্তার
লাকসাম পৌরসভার পশ্চিম শ্মশান পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোছাঃ রফিকুন নেছার কন্যা এবং এ.বি.এম. কলিম উল্লাহর স্ত্রী। পরিবার গঠন, সন্তানদের নৈতিকতা ও শিক্ষায় তাঁর অবদান অনুকরণীয়।
নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে জীবনযুদ্ধে জয়ী নারী আলেমা আক্তার, বাকই দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইগাঁও গ্রামের আনোয়ারা বেগম ও আলহাজ্ব জ্বালামানের কন্যা। কঠিন নির্যাতন ও প্রতিকূলতা কাটিয়ে তিনি নতুন জীবন গড়ে তুলেছেন, যা অন্য নারীদের জন্য শক্তির উৎস।
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী আছমুন নাহার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দোখাইয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাজেরা খাতুনের কন্যা ও মোঃ নাসির উদ্দিন মজুমদারের স্ত্রী। সমাজসেবায় তাঁর নিরলস অবদান তাকে অদম্য নারীর তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।
সম্মাননা পেয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন— “এই সম্মান আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীরা আজ যে ভূমিকা রাখছে, তা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলে কাজ করার অনুপ্রেরণা আরও বেড়ে যায়। আমরা চাই—নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অগ্রযাত্রায় সবাই পাশে দাঁড়াক।”