June 24, 2026, 12:02 am

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় লাকসামে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ

Reporter Name
  • Update Time : Monday, June 22, 2026
  • 8 Time View

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার লাকসামে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২২ জুন) সকালে লাকসাম উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিস অ্যাম্বাসেডর মীর মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক। প্রধান অতিথি ছিলেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা।

পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) লাকসাম ইউনিটের সমন্বয়কারী জাফর আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিএফজি অ্যাম্বাসেডর ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেন মিলন, পিএফজি অ্যাম্বাসেডর মো. সিরাজুল হক, পিএফজি অ্যাম্বাসেডর নাজনীন আক্তার নিপা, ফুলগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইয়াছিন মজুমদার, পলাশ বৈষ্ণব, বরইগাঁও বৌদ্ধ বিহারের প্রজ্ঞাশ্রী থের করুনাদর্শী ভিক্ষু, পিএফজি সদস্য ডা. আব্দুল মমিন মজুমদার, নাজমুন্নাহার নুপুর, ডা. কল্যাণ দত্ত, লাকসাম উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস, লাকসাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুজিবুর রহমান দুলাল এবং লাকসাম উপজেলা জাকের পার্টির সভাপতি নূরে আলম মানিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিপস প্রজেক্টের এরিয়া সমন্বয়কারী মো. রাসেল আহমেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সৈয়দ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। অনুষ্ঠানের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পিএফজি অ্যাম্বাসেডর নাজনীন আক্তার নিপা। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর খোদেজা বেগম।

বক্তারা বলেন, হাজার বছরের ঐতিহ্যগত সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের উৎসব-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে আসছে। এই ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্য, যা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

তারা বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির প্রবণতা উদ্বেগজনক। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই-বাছাই বা ফ্যাক্ট-চেক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মই শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। কোনো ধর্মই সংঘাত বা বিদ্বেষকে সমর্থন করে না। তাই ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

তারা বলেন, লাকসামের শত বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতেও এ জনপদ শান্তি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।


প্রিন্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category