লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার লাকসামে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন পশ্চিমগাঁও এলাকার মজুমদার ডেন্টাল কেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. শাজাহান মজুমদার।
শনিবার সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণা নামের এক নারী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট নারী বিভিন্ন সময় আদালত, থানা ও গণমাধ্যমের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন।
শাজাহান মজুমদারের দাবি, সম্প্রতি আলোচিত ওই কিশোরী নিজেই তার ছোট বোনকে কোলে নিয়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বেরিয়ে যায় এবং এর সিসিটিভি ফুটেজ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি যাচাই করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে লাকসাম থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) কিশোরীর মা উল্লেখ করেছেন, তার মেয়ে মশার কয়েল কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অথচ পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে অপহরণ, ধর্ষণ, অবৈধ গর্ভধারণসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পূর্বের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে শাজাহান মজুমদার বলেন, একই বাদী বিভিন্ন তারিখের চারটি পৃথক ঘটনার উল্লেখ করে গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দাবি করেন, আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগ ও থানায় করা জিডির তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
এছাড়া ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের একটি ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে কিশোরী আল-আমিন ইনস্টিটিউটে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়। তবে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সে অধ্যয়ন করে না বলে একটি প্রত্যয়নপত্র তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শাজাহান মজুমদার বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়াধীন থাকায় তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আদালতের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি চান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
তবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনকারী ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।