জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা):
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ব্যতিক্রমী ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লাকসাম বাতাখালী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। প্রতিবছরের মতো এবারও ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে কোরআন তেলাওয়াত, আজান ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন বিষয়ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশন ও উদ্বোধনী রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীমুড়া আলিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মো. আবদুল হালিম, হেফাজতে ইসলাম লাকসাম উপজেলা সভাপতি মুফতি আবু ইউসুফ এবং বিশিষ্ট শিল্পী ওমর হোসাইন। তারা প্রতিযোগিতার নিয়মাবলি উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, লাকসাম পৌরসভা শাখার সভাপতি নেতা বেলাল রহমান মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, লাকসাম উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আজাদ হোসেন, মো. তাজুল ইসলাম ও ডেন্টাল সার্জন মাঈনুদ্দিন খন্দকারসহ আরও অনেকে।
বিকেলে অডিশন রাউন্ড শেষে চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন লাকসাম পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও ভাইয়া গ্রুপের পরিচালক আলহাজ্ব মজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মজিবর রহমান দুলাল, সাপ্তাহিক সবুজ পত্রিকার সম্পাদক জামাল উদ্দীন স্বপন এবং মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ।
রাত ৯টায় অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সেক্রেটারি জেনারেল ড. সৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দীন সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী লাকসাম উপজেলা সভাপতি মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা কামাল মিয়া, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি লাকসাম উপজেলা শাখার সভাপতি মো. শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক মজিবুর রহমান দুলাল, ডেন্টাল সার্জন মো. শাহজাহান, বিএনপি নেতা আবুল বাশারসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন ‘শানে মাদিনা’ ও ‘সুরের ছোঁয়া’ শিল্পীগোষ্ঠী।
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাতাখালী হাফিজিয়া মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট এম. এস. দোহা।
প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ৫৪ জন প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে ১০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের হাতে অতিথিবৃন্দ সম্মাননা ও নগদ পুরস্কার তুলে দেন।
প্রথম পুরস্কার (২৫ হাজার টাকা) অর্জন করেন লাকসাম জামিয়া ইসলামিয়া নাছিরুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র মাহমুদুল হাসান। দ্বিতীয় পুরস্কার (১৫ হাজার টাকা) পান নাহিদুল ইসলাম (শ্রীপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসা, কুমিল্লা) এবং তৃতীয় পুরস্কার (১০ হাজার টাকা) অর্জন করেন উম্মে হাবিব (নুরুল ইমাম মডেল মাদ্রাসা, নাঙ্গলকোট)। এছাড়া চতুর্থ থেকে দশম স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে জাবের, মাহমুদুল্লাহ হাসান, মুনতাছির রহমান, তাফসীর হোসেন, আবরার ওমর হোসাইন, আহমাদুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান।
এদিকে ১৭ ডিসেম্বর বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে পাঁচজন হাফেজ ছাত্রকে পাগড়ি প্রদান করা হয়। পাগড়ি প্রদান করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খুল হাদীস আল্লামা আবু মুসা কাশেমী। বিশেষ ওয়ায়েজিন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুফতি আখতার হোসাইন আজাদী, মাওলানা খোরশেদ আলম, মাওলানা নুরুন্নবী হাসান, মাওলানা মহিউদ্দিন, হাফেজ মাওলানা আবু নোমান ও হাফেজ মাওলানা মুফতি মাহদি হাসান।
ওয়াজ মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আল শারাহ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি মাইনুল হক মজুমদার বাবলু, নাঙ্গলকোট প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, সমাজসেবক আবু বাহার মজুমদার, কবি ও সাহিত্যিক মুকুল মজুমদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।