লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার লাকসামের কুমার পাড়ায় নানাবিধ সংকটে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কাঁচা মাটির চরম অভাব, আর্থিক সংকট ও নানা বাধা-বিপত্তির কারণে স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা পৈত্রিক পেশা ধরে রাখতে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। একসময় হাতের নাগালে পাওয়া কুমার মাটি এখন প্রায় দুর্লভ হয়ে গেছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে বেশি খরচে মাটি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, তাতেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনছেন তারা।
এ অঞ্চলের মৃৎশিল্পীদের অনেকেই জানান, আগে লাকসাম ও আশপাশের এলাকায় ডোবা-নালা, পুকুর-জলাশয় খননের সময় কুমারদের ডেকে কাঁচা মাটি নিতে দেওয়া হতো। এখন সেসব জায়গা অবৈধভাবে ভরাট হওয়ায় মাটির উৎস হারিয়ে গেছে। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পেশাটি।
একসময় লাকসাম পৌরশহরের ধামৈচা, বাকই ইউনিয়নের কোঁয়ার, সদর দক্ষিণের শানিচৌঁ, বাগমারা নাওড়া, বিজয়পুর, মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার, লক্ষণপুর, নাওতলা, বচইড়, ধিকচান্দা—এসব এলাকাজুড়ে মৃৎশিল্পীদের উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা যেতো। বর্তমানে সেই জমজমাট শিল্প প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। বিশেষ করে লাকসামের ঐতিহ্যবাহী দৌলতগঞ্জ কুমার পট্টিতে এখন হাহাকার; অনেকেই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন।
মৃৎশিল্পীরা অভিযোগ করেছেন, কাঁচা মাটি কেনা ও পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয়, বিভিন্ন সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি, আর্থিক সংকট এবং বাজারে প্লাস্টিক, সিলভার ও ফাইবারজাত পণ্যের সস্তা বিকল্প থাকায় তাদের পণ্যের আর চাহিদা নেই। হাড়ি-পাতিল, কলস, থালা-বাটি, ফুলদানি, খেলনা, ব্যাংকসহ নানা দেশীয় সামগ্রী এখন আর আগের মতো বিক্রি হয় না।
এক সময় কুমারদের হাতের তৈরি পণ্যের কোনো বিকল্প ছিল না। তাদের শিল্পকর্মে ফুটে উঠত গ্রামের মানুষের হাসি-কান্না ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু আজ সেই শিল্প বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
কুমার সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে এখনও এই শিল্প টিকে থাকতে পারে। নইলে একসময়কার ঐতিহ্যবাহী এ পেশা হারিয়ে যাবে পুরোপুরি।