জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা):
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম হিরু এবং লাকসাম পৌরসভা বিএনপি সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের গুমের ১২ বছর পূর্তিতে বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাতে RAB পরিচয়ে হিরু, পারভেজ এবং জসিমকে তুলে নেওয়ার ঘটনা দেশের রাজনীতিতে তখনই ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। লাকসামে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে ‘লাকসাম ফ্লাওয়ার মিলে’ প্রায় এক ঘণ্টার অভিযানে ৯ জনকে আটক করা হয়। পরে আটক নয়জন ও জসিম ফিরে এলেও হিরু আঙ্কেল ও পারভেজ ভাই আর ফেরেননি। দীর্ঘ ১২ বছরেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
স্মরণ দিবস উপলক্ষে দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে সামিরা আজিম দোলা বলেন, “আজকের দিনটি লাকসামের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন। ১২ বছরেও আমরা আমাদের দুই প্রিয় নেতার ভাগ্য জানতে পারিনি। স্বাধীন দেশে এমন বিচারহীনতা অকল্পনীয়।”
তিনি বলেন, তার বাবা মরহুম কর্নেল আনোয়ারুল আজিম হিরু ও পারভেজের ওপর ভরসা করেই লাকসাম–মনোহরগঞ্জের উন্নয়নে রাজনীতি করেছেন। দুই নেতার সঙ্গে তার বাবার ছিল হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। বাবার মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তাদের স্মরণ করেছেন এবং সন্ধান নিশ্চিতে চেষ্টা করেছেন বলেও জানান দোলা।
দোলা আরও বলেন, “হিরু আঙ্কেল ও পারভেজ ভাইয়ের পরিবারের মতো আমিও বাকরুদ্ধ। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাই না। যারা এ ঘটনার নেপথ্যে জড়িত—তাদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমি বাবার আদর্শ বুকে নিয়ে আজীবন হিরু আঙ্কেল ও পারভেজ ভাইকে স্মরণ করবো এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবো।”
গুম হওয়া দুই নেতার উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি তারা বেঁচে থাকেন, তাহলে দ্রুতই আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। আর যদি গুমের পর হত্যা করা হয়ে থাকে—আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”
এ ঘটনার সঠিক তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান দোলা। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এ গুমের সঙ্গে যত শক্তিশালী ব্যক্তিই জড়িত থাকুন না কেন—জনসমক্ষে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হোক।”
সামিরা আজিম দোলা বর্তমানে কুমিল্লা-৯ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।