June 23, 2026, 12:42 pm

অবশেষে দখলমুক্ত হলো নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের ঐতিহাসিক প্রবেশপথ

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, June 17, 2026
  • 12 Time View

জি.এম.এস. রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা): দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে দখলমুক্ত করা হয়েছে উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ঐতিহাসিক বাড়ি ও জাদুঘরের প্রবেশপথ। সোমবার (১৬ জুন) রাতে স্থানীয় প্রশাসন, ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে প্রবেশপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি গেট বা পথ উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনস্বার্থ রক্ষায় জনগণের দীর্ঘ আন্দোলন ও সচেতনতার বিজয়।

জানা যায়, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকায় অবস্থিত নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘরের গেজেটভুক্ত ঐতিহাসিক প্রবেশপথ ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর রাতে দেয়াল নির্মাণ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে দর্শনার্থী ও স্থানীয় জনগণের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয় এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে।

এ ঘটনায় ওয়াকফ প্রশাসন বিষয়টির আইনগত দিক পর্যালোচনা করে প্রবেশপথটি খুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করে। ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের মতে, জনসাধারণের চলাচলের পথ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এককভাবে বন্ধ করতে পারে না।

সূত্র জানায়, প্রবেশপথের মালিকানা দাবি করে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সৈয়দ আলী নামের এক ব্যক্তি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় একই বছরের অক্টোবরে তিনি প্রবেশপথে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

লাকসাম পৌরসভা কর্তৃপক্ষও বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পায়, নির্মিত দেয়ালের কোনো অনুমোদন ছিল না। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেয়াল অপসারণের জন্য একাধিক নোটিশ দেওয়া হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

নথিপত্র পর্যালোচনায় স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, মালিকানা নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে তার সঙ্গে দলিলের চৌহদ্দির অসঙ্গতি রয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন থাকলেও প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন অনেকেই।

নবাব ফয়জুন্নেছার পরিবারের বংশধর ফজলে রহমান চৌধুরী আয়াজ বলেন, “এই গেটটি অনেক আগেই খুলে দেওয়া উচিত ছিল। নবাব বাড়ি শুধু একটি পরিবারের সম্পদ নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় আমরা বিব্রত ও কষ্ট পেয়েছি।”

ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী সৈয়দ মাসুদুল হক বলেন, “এটি সাধারণ মানুষের বিজয়। ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ফলেই প্রবেশপথটি পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে।”

আইনজীবী ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, “মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু জনসাধারণের চলাচলের পথ একতরফাভাবে বন্ধ করে দেওয়া আইনসম্মত নয়। আদালতের রায় ছাড়া এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না।”

এদিকে প্রবেশপথ দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় ইতিহাসপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে নবাব ফয়জুন্নেছার স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

ঐতিহাসিক এই প্রবেশপথ উন্মুক্ত হওয়াকে লাকসামবাসী তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।


প্রিন্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category