April 5, 2026, 10:50 pm

মনোহরগঞ্জে চিকিৎসক লাঞ্ছনা: ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলল তদন্তে

Reporter Name
  • Update Time : Friday, April 3, 2026
  • 73 Time View

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে তদন্তে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনূর ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. মো. শাহরিয়ার ইনাম খান জানান, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার আচরণ ছিল অপেশাদার এবং একজন গেজেটেড কর্মকর্তার প্রতি চরম অবমাননাকর।

এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত কমিটি। বিশেষ করে ‘ওষুধ চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির পরিপন্থী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত বুধবার (১ এপ্রিল) জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল চত্বরে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী বলেন, “হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ওসি শাহিনূর ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ দিবাগত রাত ১২টার দিকে গণপিটুনির শিকার নাঈম (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

চিকিৎসক ফয়জুর রহমান অভিযোগ করেন, রোগীকে রেফার করার কথা জানানো মাত্রই ওসি উত্তেজিত হয়ে তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং চিকিৎসকদের ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে অপবাদ দেন। এমনকি ওসির নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা আহত রোগীকে হাসপাতালে রেখেই চলে যান, ফলে চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

ঘটনার পরপরই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা ছিলেন সহকারী সার্জন ডা. এস এম ফারুক হোসাইন এবং সদস্য সচিব ডা. নুর মোহাম্মদ।

এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ দ্রুত দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা সতর্ক


প্রিন্ট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category