জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা) :
লাকসাম উপজেলার বাকই ইউনিয়নের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পাশ্ববর্তী নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বরের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিয়ে পড়ানোর পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ।
জানা যায়, আগামী রোববার (৩ মে) নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বরের বাড়িতে ওই বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস সুলতানা পুরোহিতের সাথে কথা বলে বিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কনে এটা মানতে না চেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিলে খবর পেয়ে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম দ্রুত পদক্ষেপ নেন।
শুক্রবার (১ মে) তিনি লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা এবং লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে বাকই ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে মেয়ের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে চলমান বাল্যবিবাহের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে এমপি আবুল কালাম মেয়ের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ। কোনোভাবেই এ ধরনের অপরাধ মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ নিলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটি একটি জুনিয়র হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের দ্রুত হস্তক্ষেপ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
(সংবাদটি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।)