মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মানরা গ্রামে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী কন্যা সন্তান, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানরা গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে মাহবুবুর রহমান প্রায় ছয় বছর আগে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের ওমর ফারুকের মেয়ে ফারজানা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
প্রবাসী মাহবুবুর রহমানের অভিযোগ, তিনি বিদেশে থাকা অবস্থায় একই গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে সাফিন (২৫)-এর সঙ্গে তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি একাধিকবার মেয়ের পরিবারকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৭ মে ফারজানা আক্তার তার স্বামীর পাঠানো ৫০ হাজার টাকা, এনজিও ঋণের জন্য তোলা প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং আড়াই থেকে তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে কন্যা সন্তান মায়মুনা আক্তার মারিয়াকে সঙ্গে করে প্রেমিক সাফিনের হাত ধরে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় মাহবুবুর রহমানের বাবা আবুল বাসার বাদী হয়ে মনোহরগঞ্জ থানা-এ পুত্রবধূ ফারজানা আক্তার ও সাফিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার (১২ মে) মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, “স্ত্রী, সন্তান ও কষ্টার্জিত সম্পদ হারিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। দ্রুত আমার সন্তানকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
প্রবাসীর বাবা আবুল বাসার বলেন, “অভিযোগ দেওয়ার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ আমার নাতনি ও ছেলের বউয়ের কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। আমার ছেলে বিদেশে বাকরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।”
এ বিষয়ে মাকসুদ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”