জি.এম.এস রুবেল, লাকসাম (কুমিল্লা) : কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লুৎফুর রহমানের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে নিজ গ্রাম রাজাপুরে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজার পূর্বে লাকসাম উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লাকসাম কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এই বীর সেনানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তাঁর কফিন জাতীয় পতাকায় আবৃত করা হয় এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা, লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সকাল ৯টায় রাজাপুর দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা এবং সকাল ১০টায় নিজ বাড়িতে (খিলা রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশে) দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, সৈয়দ লুৎফুর রহমান গত শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে, ভাই-বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন রাজাপুর দরবার শরীফের পীর সাহেব ক্বেবলা শাহসূফি হযরত মাওলানা সৈয়দ শাহ্ অলি উল্লাহ রাজাপুরী (রহঃ)-এর দৌহিত্র। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি জাসদ ছাত্রলীগের কুমিল্লা জেলা সভাপতি এবং পরবর্তীতে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা সময়ে তিনি কারাবরণও করেন।
এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ৮০’র দশকে বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লাকসাম কমান্ড কাউন্সিল গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।