লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
চাষের জমিতে যত্ন নিতেন মন দিয়ে, সংসারে ছিলেন হাসিখুশি একজন মানুষ — সেই কৃষক ছাদু মিয়া এখন নেই। কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ভাকড্যা গ্রামের এই কৃষক নিখোঁজ হয়েছেন টানা ২৪ দিন আগে, কিন্তু এখনো তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
গত ১৪ অক্টোবর ভোর ৬টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যান ছাদু মিয়া (৫৭)। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এমনকি স্থানীয়রাও তার কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের ঘটনায় ছাদু মিয়ার স্ত্রী রেহানা বেগম ১৬ অক্টোবর লাকসাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
রেহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“প্রতিদিন সকালে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি, যদি ফিরে আসে…। কোথায় গেল আমার স্বামী, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
ছাদু মিয়ার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, তার ভাইয়ের কিছু দেনা ছিল — তিন থেকে চার লাখ টাকার মতো। তবুও তিনি মনে করেন না, দেনার কারণে ভাই পালিয়ে যেতে পারেন।
“ও একটু অসুস্থ ছিল, কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার মানুষ না। মনে হয় কোনো অঘটন ঘটেছে,” বলেন সাইফুল।
ছাদু মিয়ার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, গায়ের রং কালো, মুখে আধাপাকা দাড়ি। নিখোঁজের সময় তার পরনে ছিল চেক লুঙ্গি ও অফ-হোয়াইট রঙের হাফ শার্ট।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান,
“ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তার সন্ধান পেতে।”
এদিকে গ্রামের মানুষও ছাদু মিয়ার খোঁজে উদ্বিগ্ন। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলে ভাকড্যা গ্রামের কোনো না কোনো কোণে এখনো শোনা যায় রেহানা বেগমের হাহাকার —
“ছাদু মিয়া, তুমি কই গেলে?”